“পুরনো দিনের অভিনেতারা আমাকে হ্যাটা করত…চোখের জল বের করে দিয়েছিল” টলিউডের ‘অদৃশ্য ব্যান কালচার’ নিয়ে বি’স্ফোরক অনামিকা সাহা! সামনে আনলেন, সৌমিত্র ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের মতো ক্ষমতাশালীদের দ্বারা পুরনো অপমানের স্মৃতি!

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অনামিকা সাহা (Anamika Saha) বরাবরই স্পষ্ট কথা বলার জন্য পরিচিত। ইন্ডাস্ট্রির অন্যায় হোক কিংবা রাজনৈতিক তারকাদের নিয়ে বিতর্ক, নিজের মত প্রকাশ করতে কখনও পিছপা হননি তিনি। সম্প্রতি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ফের অকপট মন্তব্য করতে দেখা গেল অভিনেত্রীকে। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনির্বাণ ভট্টাচার্য বা ঋদ্ধি সেন-এর মতো শিল্পীরা ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অনামিকা।

এদিন তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমাকে কী করত? আমাকে পুরনো দিনের অভিনেতারা যেমন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়রা সব হ্যাটা করত!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিউডে অনামিকা জানান, অভিনয় জীবনের শুরুর সময় তাঁকে শুধু নতুন শিল্পী বলেই নয়, পদবী নিয়েও নানান কটূক্তি শুনতে হয়েছে। সেই সময় তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই নতুন ছিলেন এবং নামী অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলেন। সেটে হাসি-মজা, আড্ডার মধ্যেই হঠাৎ এমন কিছু মন্তব্য আসে, যা তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। অভিনেত্রীর দাবি, একদিন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, “টালিগঞ্জে আগের মতো আর ‘ভদ্র পদবী’র দাপট নেই।

এখন ‘সাহা, শুঁড়ি, শুয়োর’রা বেনোজল হয়ে ঢুকে পড়েছে।” সেদিনের স্মৃতি এখনও অনামিকার মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, ওই মন্তব্য শোনার পর তিনি চোখের জল সামলাতে না পেরে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সেই অপমান সহজে ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী। অনামিকা আরও বলেন, “এইরকম করে খোঁচা দেওয়া হতো আমাকে। আমি কিন্তু লেগে থেকেছি, কখনোই নিজেকে এসব কথায় প্রভাবিত হতে দেয়নি।” তাঁর মতে, তখন প্রকাশ্যে ‘ব্যান কালচার’ শব্দটা ব্যবহার না হলেও, অদৃশ্যভাবে এই ধরনের আচরণ বহুদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে চলেছে।

অনামিকা আরও জানান, পরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। তাঁর অভিনয় দক্ষতা দেখে একসময় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই অন্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “এই ওরম করিস না। অনামিকা দারুণ অভিনয় করে রে, আমাদের ঝুলিয়ে দিচ্ছে!” অভিনেত্রীর দাবি, সেই কথার পর অনেকেই তাঁর কাজকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে খলনায়িকা থেকে মায়ের চরিত্র, সব ক্ষেত্রেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে এই পথ একেবারেই সহজ ছিল না। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে নিয়মিত লড়াই করতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনামিকা স্পষ্ট জানান, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরও ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুনঃ স্বস্তি ফিরতেই ফের দুঃসংবাদ! শুটিং ফ্লোরেই আ’হত জোজো মুখোপাধ্যায়! শরীরে তীব্র য’ন্ত্রণা নিয়েই চলছিল কাজ, শেষরক্ষা হল না! ছেলে হাসপাতাল থেকে ফিরতেই তড়িঘড়ি ভর্তি গায়িকা! বি’পদ যেন পিছুই ছাড়ছে না! এখন কেমন আছেন তিনি?

তিনি বলেন, “তাই বাকিদেরও লেগে থাকতে হবে। ‘ব্যান কালচার’ শব্দটা না থাকলেও, চিরকাল অদৃশ্যভাবে এমন দুর্ব্যবহার চলেই এসেছে!” তাঁর মতে, সময় বদলেছে এবং এখন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ আরও খোলা হওয়া দরকার। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় টলিউডে পদবী নিয়ে তাঁকে অপমান করা হলেও পরে বহু শিল্পী একই পদবী নিয়ে, নিজেদের প্রতিভা দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। সেই কারণেই আজ তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিভাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

You cannot copy content of this page